গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রোববার সমাবেশ করবে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। রাজধানীর শাহবাগে দুপুর ২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচি শুরু হবে। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সমাবেশের মাধ্যমে বড় শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ছাত্রদল। এজন্য জেলা, মহানগরসহ গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অন্তত ৯০টি সাংগঠনিক দল করেছে। সারাদেশ থেকেই নেতাকর্মীরা আসবেন।
ছাত্রদল প্রথমে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কর্মসূচি দেয়। কিন্তু সেখানে আগেই জমায়েতের ঘোষণা থাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অন্যত্র সমাবেশ করতে ছাত্রদলকে অনুরোধ জানায়। এতে সাড়া দিয়ে শাহবাগে সমাবেশ করছে ছাত্রদল।
ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জানান, একই দিন পাশাপাশি অবস্থানে দুটি সংগঠনের কর্মসূচি থাকায় সমাবেশে উপস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে ছাত্রদল। দেশের বৃহৎ ছাত্র সংগঠন হিসেবে তারা নিজেদের সমর্থন ও শক্তিমত্তা দেখানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে সারাদেশে সাংগঠনিক দল গঠন করা হয়। তারা দফায় দফায় বৈঠক করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। এসব বৈঠকে সমাবেশ সফল করতে নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
দেশ গঠনে থাকবে বিশেষ বার্তা
ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জানান, ৫ আগস্টের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে এককভাবে সমাবেশ সফলে তারা দিনরাত কাজ করছেন। সাংগঠনিক অভিভাবক হিসেবে তারেক রহমান দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। সমাবেশ থেকে জাতীয় স্বার্থ ও দেশ গঠনে ছাত্রসমাজের জন্য বিশেষ বার্তা দেওয়া হবে। দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে শিক্ষা কার্যক্রমে বিঘ্ন প্রতিরোধ এবং ছাত্রসমাজকে কেউ যাতে ভুল পথে পরিচালিত করতে না পারে, সে বিষয়ে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ও রংপুরের সাংগঠনিক দলের সদস্য সালেহ মোহাম্মদ আদনান বলেন, ‘স্বৈরাচারের সময় আন্দোলনের পরীক্ষায় ছাত্রদল পাস করেছে। এবার মুক্ত বাতাসে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেবেন।’
ছয় দফা নির্দেশনা
ছাত্রদলের সূত্র জানায়, সমাবেশ সফল করতে ছয় দফা নির্দেশনা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এর মধ্যে রয়েছে সমাবেশে কোনো ব্যানার-ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড আনা যাবে না। শুরু থেকে সমাবেশ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক ইউনিটকে থাকতে হবে। কাঁটাবন মোড় থেকে আজিজ সুপার মার্কেট এবং বাংলাদেশ মেডিকেল হাসপাতালের মাঝের গলি দিয়ে হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টাল পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবায় নিয়োজিত পরিবহনকে চলাচলে সহায়তা করতে হবে। নেতাকর্মী বহনকারী কোনো ইউনিটের গাড়ি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশ করতে পারবে না। ব্যক্তিগত শোডাউন ও মিছিল নিয়ে সমাবেশে আসা যাবে না। সমাবেশ শেষে নির্ধারিত স্থান সংশ্লিষ্ট ইউনিটকে পরিষ্কার করতে হবে।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব সমকালকে বলেন, ‘সমাবেশ থেকে দেশ গঠনে ছাত্রসমাজকে সম্পৃক্ত হতে আহ্বান থাকবে। কুচক্রী মহলের প্ররোচনায় বিভ্রান্ত না হওয়ার ও আহ্বানও থাকবে। এ ছাড়া ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা উচ্চকণ্ঠ দাবিতে পরিণত করা হবে।’
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, সমাবেশে নগরীর প্রায় আড়াই হাজার নেতাকর্মী অংশ নেবেন। এজন্য বাসের পাশাপাশি একটি ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি সাইফুল আলম বলেন, ‘আবেদন করলে রেলওয়ে একটি ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে। নির্ধারিত ১০ লাখ টাকা ভাড়া নিজেদের পাশাপাশি বড় ভাইদের কাছ থেকে সংগ্রহের পর তাদের দিয়েছি।’
