চলতি বছরের আগস্টে বিশ্বের প্রথম করোনা টিকা উদ্ভাবনের ঘোষণা দেয় রাশিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গামালিয়া রিসার্চ সেন্টার ‘স্পুটনিক-৫’ নামে টিকাটি তৈরি করে। এ টিকাটিই এখন প্রয়োগ করা হচ্ছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যারা অন্তত ৩০ দিন আগে কোনো ইনজেকশন নিয়েছেন, দুই সপ্তাহ ধরে শ্বাসকষ্টে ভুগছেন তাদের টিকা প্রদান কর্মসূচি থেকে বাদ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি কিছু অসুস্থতা ও গর্ভবতী মায়েদেরও এ টিকা দেয়া হচ্ছে না।
প্রত্যক ব্যক্তি দুটি করে ডোজ পাবেন। প্রথমটির পর ২১ দিনের ব্যবধানে আরেকটি ডোজ দেয়া হবে।
স্পুটনিক-৫ নামের করোনা টিকাটি ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা যাবে। রুশ টিকা প্রস্তুতকারী সংস্থাটির দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে স্পুটনিক ৫-এর প্রতি ডোজ ১০ ডলারের কম মূল্যে পাওয়া যাবে। রাশিয়া বলেছে, নিজেদের জনগণের জন্য এই টিকা বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে।
গত বুধবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন গণহারে করোনার টিকা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
গত মাসে রাশিয়ার সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয় যে, দেশটির উদ্ভাবিত করোনার টিকা স্পুটনিক ভির ট্রায়ালে ৯২ শতাংশ সফলতা এসেছে।
রাশিয়া আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দুই লাখ ভ্যাকসিন উৎপাদন করবে। রুশ প্রেসিডেন্ট জানান, শিক্ষক ও চিকিৎসাকর্মীদের শরীরে প্রথমে এ টিকা দেয়া হবে।
গামালিয়া রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক আলেকজান্ডার গিন্টসবার্গ এক বিবৃতিতে বলেন, টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার এক সপ্তাহ পর দ্বিতীয় বিশ্লেষণের উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। এর অর্থ হলো– তাদের দেহ দুটি ডোজের ক্ষেত্রেই আংশিকভাবে সাড়া দিয়েছে। টিকাটির কার্যকারিতা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলেও জানান তিনি।
এর আগে প্রথম করোনার টিকা উদ্ভাবনের ঘোষণায় প্রেসিডেন্ট পুতিন জানিয়েছিলেন, স্পুটনিক ভি খুবই নিরাপদ। এটি তার মেয়ের দেহেও পুশ করা হয়েছে। ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।
এখনও পর্যন্ত রাশিয়া ২৪ লাখ ৩১ হাজার ৭৩১ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ৪২ হাজার ৬৮৪ জন।



