নিজস্ব প্রতিবেদক

ভোক্তা অধিকার, হট লাইন, ধুপে টিকছে না কঠোরতা …
জনগণের মুখে বিরূপ পতিক্রিয়া। সরজমিন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে মানুষের মুখে মুখে ক্ষোভ আর আক্রোশ ভরা অভিযোগ!
কেউ সিলিন্ডারের গায়ে মূল্য লেখতে বলছে। কেউ বলে হট লাইনে কল দিয়ে কে উপকার পেয়েছে? দোকানদারদেও প্রতি সবচেয়ে বাস্তব নালিশ হচ্ছে ওরা কাউকে ক্যাশ মেমো দিচ্ছে না। মেমো চাইলে বলে নিলে নেন না নিলে ভাগেন। কেউ সরকারকে দায়ী করছেন, বলছেন, এই দেশে চুরি করার রাস্তা রেখেই আইন তৈরি করা হয়। পণ্যেও দাম নির্ধারণ হয়। মজার কমেন্টও শুনি কখনও-অনেকে বলছেন, ভোক্তা অধিকার আলাদীনের চেরাগের জ্বীন, গল্পে আছে আর ফেসবুকে-ই সে থাকে শুধু! জনগণের কোনদিন মুক্তি নাই, আবার কেউ বলেন লাকড়ির চুলায় সমাধান!
এলাকাবাসীরা নিজের চোখে দেখে যেটা বলছেন- ভোক্তা অধিকার সিলিন্ডার নিয়ে বেশি মাতামাতি করেই ব্যবসায়ীদেও মাথা খেয়েছে। সিলিন্ডার গ্যাস মজুদকারীরা ভোক্তা অধিকার সোস্যাল মিডিয়া জুড়ে যেভাবে গোড়াউন ও দোকানে ঢু মারছেন, এতে আগে থেকেই সিন্ডিকেটের হোতারা সজাগ হয়ে গেছে! অনেকে মজুদকৃত সিলিন্ডার গোডাউন ও দোকান থেকে অন্যত্র সরিয়ে ফেলারও সুযোগ নিয়েছেন। এই সুযোগে দোকানে দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার কমে যাওয়ায় ওরা ব্যবহারকারীকে দোকানে গ্যাসের হাহাকার দেখানোর সুযোগে ক্রেতাদের, গত নভেম্বর মাস থেকে গলাকাটার সুযোগ নিতে পেরেছিল এলজিপি সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবসায়ীরা। তবে নিজের পাতা ফাঁদে এবার মনে হচ্ছে নিজেরাই কিছুটা হলেও ফেঁসে গেছে! তাদের কুটিল ষড়যন্ত্রমূলক অহেতুক এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ বিকল্প পথ খুঁজতে থাকেন। শুধু মাটির চুলাই ব্যতিক্রম ছিল। সেটাও যোগার করে মানুষজন এলপিজিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছে। অন্য দিকে রাজধানী জুড়ে লাখো মানুষ ইন্ডাকশন, ইনফারেড, ডিজেল স্টোভ, রাইসকুকার, কারিকুকার কিনতেও হুমড়ি খেয়েছেন ক্রোকারিজের দোকানে। হাজার হাজার টাকা ভেঙে যখন মানুষ রান্নার অন্য উপায় বের করেছে, এদের কত জন আর এলপিজিতে ফিরবেন? সিলিন্ডার কোম্পানীদের অনেক নিয়মিত ক্রেতা যে হারে কমবে, তা বলাই যায়।
দেশে কেজি হিসেবে বিক্রি হওয়া এলপিজি গ্যাস সংকটকে উতরে দিয়েছে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদার কিছু অসাধুচক্র! ১২ কেজি বা ২২.২ লিটার সিলিন্ডারই রাজধানীর মানুষ বেশি ব্যবহার করে। তবে খাবার রেস্তোরার সিলিন্ডার এর আকার অনেক বড়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, “১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস ১২৬৫.৪ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। যদি লিটার প্রতি এলপিজির দাম ৫৭ টাকা হয়।”
অহেতুক ও আকস্মিক দাম বৃদ্ধিকে মানুষের নাগরিক অধিকার ক্ষুন্ন করার সামিল। বিভিন্ন এলাকার বেশিরভাগ মানুষের ভাষ্য: ‘‘ নভেম্বর’ ২০২৫ শুরুতে ১২ কেজির সিলিন্ডার অনেকে কিনেছেন ১৪০০ টাকায়। অনেকে ডিসেম্বরেও সেই একই দামেই কিনেছেন। কিন্তু জানুয়ারির শুরুতে সেই একই সিলিন্ডার গ্যাস হয়ে গেছে ১৮০০ টাকা! ৭ দিন পর পর সিলিন্ডারের উদ্ধগতি কোথায় চলে গেল? দেশবাসীর অজানা নয়?
ভোক্তা অধিকার নামলো বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ন্যয়! যন লাঠি ছাড়া ছাত্রকে শাসন করবে? হাস্যকর! সিন্ডিকেট ভাঙা তো দুরের কথা, দেশের একপ্রকার এসব কুচক্রী নিরব ঘাতকদের বিরুদ্ধে কোন এ্যাকশন নিতে পারলো না! দেশবাসী অবাক ও হতাশ! বাতিল করা হলো না কারও ডিলারশিপ?
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম আগে ১২৫৩ টাকা নির্ধারণ করেছে, দাম বেশি চাইলে, হট লাইন ১৬১২১ এর কথা বলে জনগণের বিশ্বস্থ বন্ধুর পরিচয় দিচ্ছেন! অথচ সরকারি অধ্যাদেশের গদির পেছনে ফেলে সিলিন্ডার সিন্ডিকেট আর রিটেইলারেরা কারও কারও থেকে ১৩৫০ টাকা থেকে কোথাও ১৮০০-২২০০-২৪০০ টাকায়ও বিক্রি করছে। অনেকে ৩৫০০ টাকায়ও বাধ্য হয়ে, পরিবারের সবার না খেয়ে থাকার ভয়ে সোনার হরিণ এলপিজি কিনে ধন্য হয়েছেন! ঢাকা ও ঢাকার আশে পাশের সিলিন্ডার ব্যবহারকারী প্রত্যেকেই প্রায় ১৫০০ টাকা বাড়তি খরচায় গ্যাস কিনে চুলায় আগুন জে¦লেছেন।
মহল্লার দোকানদারা তর্ক জুড়ে দেয় সরকারি নিয়ম দেখাতে গেলে। কেউ কেউ সরাসরি বলছে- ‘নিলে নিবেন না নিলে কেটে পড়েন’ ধরনের উদ্বত্যপূর্ণ শব্দ! সাধারণ ক্রেতারা দেশের সব সুযোগ সন্ধানী ব্যবসায়ীদের কাছে আর কত নাজেহাল হবে? বাজার সিন্ডিকেট করে রান্নার প্রধান হাতিয়ার- এই গ্যাসের রাজনীতি ও সিন্ডিকেটের হাত থেকে জাতি রেহাই চায়। প্রত্যেকটি এলপিজি গ্যাস কোম্পানীই সুযোগের সদ্বব্যবহার করেছে। লাভের তিনগুণ হাতিয়েছে। এরা ২০০০ টাকার নিচে কোন ক্রেতার সাথে বিগত এই সংকট চলাকালীন কথাই বলে নি। আশ্চর্যজনক সত্য যে, বিশ্বাবাজারে এলপিজির দাম বাড়ে না। অথচ এই দেশে সবই বাড়ে কালো ইশারায়! সরকারও দিশেহারা। এলপিজি সিলিন্ডার বন্ধের ঘোষনায় মানুষের না খেয়ে মরার উপায় আসবে। হবে না কোন সঠিক সমাধান। অনেকে বলছেন, ন্যাযমূলে টিসিবির পণ্যের মতো-সরকারীভাবে ন্যযমূলে এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে। সরকারি আদেশকৃত মূল্যে ভোক্তারা কিনতে পারছেন না যখন, সরকারকে বিকল্প রাস্তাও খুঁজে বের করতে হবে। অনেকেই ক্ষোভ জানিয়েছেন, বাসা বাড়িতেও ভাড়াটিয়ারা মাসকে মাস বিল প্রদান করছেন বাড়িওয়ালাকে। বাড়িওয়ালারাও দিচ্ছেন সরকারকে। চুলোয় রান্নার গ্যাসই থাকে না। এই বিল সরকারি খাতে যোগ হওয়াটা নাগরিকের সাথে কতটা বৈধ হচ্ছে? অনেক স্থানে মিটার সিসটেম চালু করেও আসছে না কোন সমাধান!
বড় ডিলার যখন রিটেইলারদের কাছে যখন অযথা দাম বাড়ায়, তখনই ভোক্তা পর্যায়ে সিলিন্ডার গ্যাস নিয়ে মাতম শুরু হয়ে যায়। মূলতঃ এসব ডিলারই সিন্ডিকেটের হোতা! এরাই সাধারণ দেশের মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টির কারিগর। প্রশাসন আর ভোক্তা অধিকার কার্যকরী কিছু না করতে পারলে, এলপিজির এই মহাসংকট কখনও কাটবে না?