মারুফ আহমেদ

চট্টগ্রামের কেলিশহরে শুক্রবার (৭ই ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে ক্যান্সারে দীর্ঘদিন আক্রান্ত যাত্রাশিল্পী ও লেখক মিলন কান্তি দে মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। মিলন কান্তি দে ১৯৪৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের পটিয়ার ছনহরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৭৩ সালে লেখালেখি শুরু করেন মিলন কান্তি দে। তিনি যাত্রাশিল্পের উন্নয়ন, পালাকার ও নৃত্য-সংস্কৃতির প্রসারে দীর্ঘদিন নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। জীবদ্দশায় প্রায় দেড় শতাধিক রচনা প্রকাশ করেছেন। তিনি ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যকলা বিভাগের অতিথি শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
যাত্রাশিল্পে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বিশেষ যাত্রা ব্যক্তিত্ব (১৯৯৩) ও বিশেষ যাত্রাশিল্পী সম্মাননা (২০২৩), বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (২০২২), আন্তর্জাতিক ইবসেন অ্যাডওয়ার্ড (২০০৯) সহ আরও অনেক সম্মাননা।
প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য—যাত্রাশিল্পের সেকাল-একাল, বাংলাদেশের যাত্রাশিল্প ও অমলেন্দু বিশ্বাস (গবেষণা), বাংলার মহানায়ক, আত্মজীবনী আমি যে এক যাত্রাওয়ালা, সহ অন্যান্য গ্রন্থ।
মিলন কান্তি দে শুধু একজন প্রতিভাবান যাত্রাশিল্পীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলা সংস্কৃতির একজন জীবন্ত সিংহদ্বার। এই পথিকৃৎ এর বিদায়ে দেশের যাত্রাপালা ও সংস্কৃতি বিকাশের পথে অপূরণীয়