নিজস্ব সংবাদদাতা
মৌলভীবাজার জেলা আদালত থেকে রস্তাব মিয়া ও তাজিমসহ হামলা মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে পুলিশ ছয়জনকে গ্রেফতার দেখায়। তবে এজাহারের ৩ নং আসামী তাজিম এখনও পলাতক। এ ঘটনায় বাদী সয়ফুল মিয়ার পরিবার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

ওয়ারেন্ট থাকা সত্ত্বেও কুলাউড়া থানা কেন এখনও আসামী তাজিমকে গ্রেফতার করতে পারছে না?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুরো এলাকা।
ঘটনা ঘটে ১৩ জুলাই ২০২৫ রাত ১টা ৩০ মিনিটে। কুলাউড়া উপজেলার আমানীপুর, ২ নং ইউনিয়নে সয়ফুল মিয়ার বাড়িতে রস্তাব মিয়া ও তাজিম বাহিনী নৃশংস হামলা চালায়। হামলায় বাদীর পরিবারের বেশ কয়েকজন মারাত্মকভাবে আহত হন, কারও মাথা ফেটে যায়, কারও শরীরে গুরুতর আঘাত লাগে।
ঘটনা মিডিয়ায় আলোচনায় এলে আদালতের নির্দেশে পুলিশ প্রধান আসামী রস্তাব মিয়াসহ ছয়জনকে আটক করে। কিন্তু তাজিমকে ধরতে পারেনি। স্থানীয়দের অভিযোগ—এই ভয়ঙ্কর আসামী দিনের বেলায় ইউনিয়নে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও পুলিশের হাতে আটক হচ্ছে না। অনেকে বলছেন, থানা পুলিশের সঙ্গে আঁতাত থাকার কারণেই তাজিম খবর পেয়ে আগেই পালিয়ে যায়। জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে হওয়া এই হামলার মামলা এখন জেলা জজ আদালতের মেজিস্ট্রেট আরিফ বিল্লাহ্’র অধীনে বিচারাধীন। সর্বশেষ শুনানি হয়েছে ১০ নভেম্বর ২০২৫। আগামী ২৭ নভেম্বর আবার শুনানি হবে। কিন্তু তার আগেই বাদীপক্ষের অভিযোগ—তাজিম ইউনিয়নে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং বাদীর আত্মীয়স্বজনকে হুমকি দিচ্ছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ওসি ওমর ফারুক এবং এসআই মোস্তাফিজ আসামির অবস্থান সম্পর্কে অবগত থাকলেও তাকে ধরার ক্ষেত্রে তেমন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এতে কুলাউড়া থানা পুলিশের ইমেজ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, ইউপি সদস্য মাসুদ মিয়া তাজিমকে মদদ দিয়ে আসছেন। পুলিশ আসার খবরে সহযোগীরা তাকে আগেই সতর্ক করে দেয় বলে দাবি করেছেন অনেকে। এতে চাক্ষুষ হামলাকারীকে আটক করতে ব্যর্থ হওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়েছে। এদিকে- গ্রামে গিয়ে সে আগাম ইউপি সদস্য নির্বাচনে প্রার্থীতার জন্য সমর্থনও চাইছে বলে গ্রামবাসী জানিয়েছেন। আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও থানার নিষ্ক্রিয়তায় অনেকেই হতবাক।
হামলার পর থেকে সয়ফুল মিয়ার পরিবার নিরাপত্তাজনিত কারণে বাড়ি ছেড়ে বাইরে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের আশা—তাজিমকে আটক করা হলে মামলার নিষ্পত্তি দ্রুত হবে এবং তারা নিজ বাড়িতে ফিরতে পারবেন।