Search

বাঘারপাড়ায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দলীয় প্রভাবদেখিয়ে সম্পত্তি দখলের অভিযোগ


বাঘারপাড়া প্রতিবেদক:
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার বাসুয়াড়ি ইউনিয়ন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র সহ-সভাপতি গোলাম সরোয়ারের বিরুদ্ধে সম্পত্তি দখল, অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কয়েকটি ভুক্তভোগী পরিবার। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাদশা হোসেন।

লিখিত বক্তব্যে বাদশা হোসেন বলেন, ২০১৭ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তার বাবা রুস্তম আলী ও বড় ভাই সোহাগের মৃত্যু হয়। এরপর পাঁচ ভাই ও দুই বোন তাদের মাকে নিয়ে পৈতৃক বসতভিটায় বসবাস করে আসছেন। কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর থেকেই মেজো ভাই শিহাব হোসেন, মামা গোলাম সরোয়ার হোসেনের প্ররোচনায় পৈতৃক সম্পত্তির একক মালিকানা দাবি করতে থাকেন। জমির ন্যায্য অংশ চাইলে তাদের ওপর শারীরিক হামলা ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, পরিবারের আরেক সদস্য সুজন হুসাইন ২০১২ সাল থেকে দুবাই প্রবাসী। তার কষ্টার্জিত প্রায় ৪০ লাখ টাকা বিভিন্ন কৌশলে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এ সংক্রান্ত একটি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাদশা হোসেন অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালে মামা-ভাগ্নের সম্পর্কের কথা বলে তিন লাখ টাকা নিয়ে একটি জমি বন্ধক রাখা হলেও গত ৫ আগস্টের পর জোরপূর্বক সেই জমি দখল করে নেওয়া হয় এবং বন্ধকের বিষয়টি অস্বীকার করা হচ্ছে। এছাড়া শিহাব হোসেন অন্য ভাই-বোনদের সম্মতি ছাড়াই প্রায় এক বিঘা জমি একটি ইটভাটায় বন্ধক দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করছেন বলেও অভিযোগ তোলা হয়। এ কাজে গোলাম সরোয়ার সরাসরি জড়িত বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, গোলাম সরোয়ার তার নিজ ভাই আসলাম মোল্যার সঙ্গেও প্রতারণা করেছেন। বালি উত্তোলনের কথা বলে জমিতে মাছের ঘের তৈরি করে সেটি নিজের মালিকানায় নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করা হয়। একইভাবে তাদের বোনদের জমি থেকেও বালি তুলে বিক্রি করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ তোলা হয়।
গত ২ নভেম্বর গোলাম সরোয়ার, শিহাব হোসেনসহ ৪/৫ জন সুজন হুসাইনের ব্যক্তিগত জমি থেকে গাছ কেটে নিয়ে যান বলে দাবি করা হয়। বাধা দিতে গেলে সুজন হুসাইনসহ পরিবারের সদস্যদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও মামলা গ্রহণ না করায় পরে আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন সুজন হুসাইনের মা ম্বরবানু বেগম।
এছাড়া ৭ ডিসেম্বর মামলার বিষয়টি জানার পর গোলাম সরোয়ারের নেতৃত্বে কয়েকজন বাদশা হোসেন, তার ভাই শাহাবার, বোন আশা খাতুন ও মা স্বরবানু বেগমকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়। আহতরা বিভিন্ন স্থানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, দলীয় পদ ব্যবহার করে গোলাম সরোয়ার কাউরাঘাটা গ্রামে কৃষিজমি থেকে বালি উত্তোলন ও জোরপূর্বক বিক্রির সঙ্গে জড়িত। সম্প্রতি জামালপুর গ্রামের এক সংখ্যালঘু ব্যক্তির জমি দখলের অভিযোগও তোলা হয় তার বিরুদ্ধে।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।#

Facebook
Twitter
LinkedIn