Search

যুক্তরাষ্ট্রে এক দিনে ১৪ শ’র বেশি ফ্লাইট বাতিল

ইউনিয়নগুলো বলছে, অনেক কর্মী মানসিক চাপের কারণে অসুস্থতায় ভুগছে বা দ্বিতীয় চাকরি নিতে বাধ্য হচ্ছে। 

শাটডাউন অব্যাহত থাকায় যুক্তরাষ্ট্রে ১৪ শ’র বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বিমান সংস্থাগুলোকে এ সপ্তাহে ট্র্যাফিক কমাতে বলার পর স্থানীয় সময় শনিবার ওইসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়। বিবিসি এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।

ফ্লাইট ট্র্যাকার ফ্লাইটঅ্যাওয়্যারের তথ্যমতে, শুক্রবারের তুলনায় শনিবার প্রায় ৬ হাজার ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) সপ্তাহের শুরুতে ঘোষণা করে, ৪০টি প্রধান বিমানবন্দরে আগামী কয়েক দিনে বিমান চলাচল ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হবে। এরই ধারাবাহিকতায় বাতিল হলো ফ্লাইট।

বিবিসি বলছে, এই সিদ্ধান্ত শুধু অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এফএএ প্রধান জানান, বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকারীরা অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে ক্লান্তির কথা জানানোয় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১৪ লাখ ফেডারেল কর্মী—যাদের মধ্যে বিমান নিয়ন্ত্রণকারী থেকে শুরু করে পার্ক রেঞ্জার পর্যন্ত রয়েছেন—বেতন ছাড়াই কাজ করছেন অথবা বাধ্যতামূলক ছুটিতে রয়েছেন, কারণ মার্কিন কংগ্রেস এখনো বাজেট অনুমোদন করেনি। আটলান্টা, নিউ ইয়র্ক এবং ওয়াশিংটন ডিসির প্রধান বিমানবন্দরগুলো এই সেবার হ্রাসে প্রভাবিত হচ্ছে

ইউনিয়নগুলো বলছে, অনেক কর্মী মানসিক চাপের কারণে অসুস্থতায় ভুগছে বা দ্বিতীয় চাকরি নিতে বাধ্য হচ্ছে। এবার যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী শাটডাউন চলছে, যার ফলে বাজেট সংকটে সরকারি কাজকর্মে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

বিবিসি লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্রে অনেক সরকারি সংস্থা কংগ্রেস থেকে অনুমোদিত বার্ষিক তহবিলের ওপর নির্ভর করে। প্রতি বছর কেন্দ্রীয় সরকারের আওতাধীন এই সংস্থাগুলো তাদের অনুরোধ জমা দেয়, যা কংগ্রেসকে পাস করতে হয় এবং প্রেসিডেন্টকে পরবর্তী অর্থবছরের জন্য বাজেট আইনে স্বাক্ষর করতে হয়। পহেলা অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রে নতুন অর্থবছর শুরু হওয়ার আগে যদি কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো না যায়, তাহলে শাটডাউন তৈরি হয়। এর ফলে অপ্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়, অনেক জরুরি সেবাও বিঘ্নিত হয়।

এবার রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের মতবিরোধের কারণে শেষ পর্যন্ত শাটডাউন এড়ানো সম্ভব হয়নি। ফ্লাইট হ্রাস ধাপে ধাপে কার্যকর হচ্ছে—শুক্রবার থেকে চার শতাংশ অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট কমানো হচ্ছে। ১১ নভেম্বর তা ছয় শতাংশে, ১৩ নভেম্বর আট শতাংশে এবং ১৪ নভেম্বর তা পূর্ণ ১০ শতাংশে পৌঁছাবে।

যেসব বিমানবন্দরে ফ্লাইট কমানো হচ্ছে এর প্রায় সবগুলোই ব্যস্ত শহরে অবস্থিত যেখানে যাত্রীদের চাপও বেশি। এর মধ্যে রয়েছে হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা ইন্টারন্যাশনাল, নিউ ইয়র্ক জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল, শিকাগো ও’হেয়ার ইন্টারন্যাশনাল, রোনাল্ড রিগান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল এবং লস অ্যাঞ্জেলেস ইন্টারন্যাশনাল বিমানবন্দর।

প্রতিদিন তিন হাজার ৫০০ থেকে চার হাজার ফ্লাইট বাতিল হতে পারে বলে জানিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম বলছে, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়বে না।

Facebook
Twitter
LinkedIn