মারুফ আহমেদ, বিশেষ প্রতিনিধি
শুরু হলো উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষা। আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০ টা থেকে শুরু হয় ছাত্রছাত্রীদের বহুল প্রত্যাশিত এই পরীক্ষা।
সারাদেশে মোট ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায়। বোর্ডের সূত্র মতে সাধারণ ৯ টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থা প্রায় ১০ লাখ ৫৫ হাজারের মতো। মাদরাসা বোর্ডের অধীনে সমমনা আলিম পরীক্ষার্থঅ রয়েছে প্রায় ৮৬ হাজার। তবে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৯ হাজারের একটু বেশি। গেল বছরের তুলনায় কিন্তু এ বছর পরীক্ষার্থী তুলনামূলকভাবে কম। ২০২৪ সালে পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৯৩ জন।

বেশিরভাগ কেন্দ্র পরিদর্শন করে দেখা গেছে বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আশে পাশের ৫ টি কলেজের সিট পড়েছে। মোট ২ হাজার ৭৯৭ টি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এবার পরীক্ষার সময় নিয়ে অনেক অভিভাবক অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ভরা বর্ষায় ডেংগু প্রকোপ। সিজনাল ভাইরাস জ্বর চলছে। একটি কেন্দ্রে অপেক্ষমান নাইমুল ইসলাম সাহেব জানালেন গতকাল ছেলের ডেংগু পরীক্ষা করিয়ে গা গরম অবস্থায় তিনি ছেলেকে নিয়ে এসেছেন পরীক্ষা দেয়াতে। যানজট নিয়েও আছে মানুষের ভোগান্তির অভিযোগ। পুরো শহরের সকালের চিত্র এটা। গোপীবাগ থেকে মোস্তফা সাহেব ছেলেকে নিয়ে আসছেন। যানজটের ভয়ে ১০ টার পরীক্ষার জন্য সকাল ৭:৩০ মিনিটে রওনা দিতে হচ্ছে বলে জানান। তাহমিনা বেগম এলাকার প্রতিটি রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থার কথা বর্ণনা করেন। পরীক্ষার দুটো দিন আগে যদি রাস্তাঘাটে ইটের খোয়াও দেয়া যেত তবু ছেলেমেয়েরা একটু আরামে পরীক্ষা দিতে আসতে পারতো বলে তিনি মনে করেন।

সবচেয়ে বড় সমস্যাটি দেখা দিয়েছে এবার পরীক্ষার কেন্দ্রের বাহিরে বাহিরে লোকজনের সন্তানের জন্য দীর্ঘ ৩-৪ ঘন্টার অপেক্ষায় বসে থাকাটা। আজ প্রথম দিন ঝিরি ঝিরি বৃষ্টিতেই অনেককে দেখা গেছে খুব কষ্টের সাথে সন্তানের ভবিষ্যতের চিন্তায় অপেক্ষা করতে। প্রায় কলেজ ও এলাকার স্থানীয়রা এবার কোন ছাউনির ব্যবস্থা না করায় বেশিরভাগ অভিভাবক চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আবার কোথাও কোথাও ছাউনি ও পানি পানেরও ব্যবস্থা চোখে পড়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষরা বেশিভাগই ছিল নিশ্চুপ। কেন কোন ছাউনি রাখেননি এটা রাজনৈতিক চাপ না অন্যকিছু এই ধরনের কিছু ইংগিত পাওয়া গেছে। অনেক অসুস্থ অভিভাবককে দীর্ঘ সময় কোন চায়ের দোকান, মার্কেটের সিড়ি, সিএনজি গ্যারেজ, বাসা বাড়ির অভিমুখেও ঘন্টার পর ঘন্টা ঝুড়ি বৃষ্টি মোকাবিলা করে দুপুর ১:০০ পর্যন্ত বসে থাকতে হয়েছে। মানুষের মানবিক ছাউনি পায়নি অভিভাবক মহল। তবে নিরাশ করেনি প্রকৃতি। আজকের ঝাঁজালো রোদে বড় বড় গাছের নিচে ছায়া ও বাতাসে সন্তানের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষায় অনেকে খুঁজেছেন শান্তির পরশ!
কলেজ কর্তপক্ষ শেষ ঘন্টা বাজার ১০ মিনিট আগে কলেজের মেইন গেইট খুলেছে। তখন অভিভাবক মহলে যেন ফিরে আসে স্বস্থির নিঃশ্বাস। পরীক্ষার্থীরা বেড়িয়ে আসলে অভিভাবক ছুটে এসেছেন নিজ নিজ সন্তানের কাছে। বেশির ভাগ ছাত্রছাত্রীরা জানায় প্রথমদিন। পরীক্ষা খুব ভাল হয়েছে।
১০ আগস্ট পর্যন্ত চলবে লিখিত পরীক্ষা। ১১-২১ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা।
ছবি: প্রতিবেদক