Search
[english_date] / [bangla_date] / [hijri_date] / [bangla_time]

আপনার এনআইডি দিয়ে অন্য কেউ সিম চালাচ্ছে না তো ?

নিজস্ব প্রতিবেদক

মোবাইল ফোন কোম্পানীগুলোতে গ্রাহকের এনআইডির বিপরীতে অন্য গ্রাহককে সিম ইস্যুর অভিযোগ উঠেছে। যা গ্রাহকের সাথে প্রতারণা করার সামিল।
কোম্পানিগুলো এতে বিশাল অংকের টাকা উপার্জনই করছে না, অবৈধ ফায়দা লুটে নিচ্ছে।
কাষ্টমার কেয়ারে গেলে, বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে। কোন প্রকার সদুত্তোর মিলছে না। বরং গ্রাহকদের-ই নিজেদের এনআইডিতে অবার্চীন ঢুকে পড়া সিম কিভাবে এখন ডি-এ্যাকটিভ হবে, এ নিয়ে রোজ কাষ্টমার কেয়ারে সরগোল করতে দেখা যাচ্ছে।
অনেক গ্রাহক-অবাক বিস্ময়ে প্রশ্ন রাখছেন- ‘ আমি ২০১৩ সাল থেকে জিপির একটি সিম ব্যবহার করছি। আমার এনআইডি সার্চ দিয়ে এখন আমার নামে আরও ৬ টি বাড়তি জিপি সিম শো করছে! একজনের এনআইডিতে বিক্রি হওয়া সিম নিয়ে যে কোন বেআইনী কাণ্ড ঘটলে-এই দায় কার? কোম্পানীকে বিশ্বাস করে লাখ লাখ টাকা রিচার্জ করা নিরপরাধ মানুষটিকেই তো আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হবে! তবে জিপি থেকে ১৪ অক্টোবর বলা হয়েছে-“ চালু সিম এর মালিকানা পরিবর্তন কিংবা ডি-রেজিস্ট্রেশন লাগবে না। গ্রাহকের এনআইডি/এসএনআইডি -এ থাকা ১০ এর অধিক সিম বিটিআরসি নির্দেশনায় ৩১ অক্টোবর এর পর বন্ধ হয়ে গেলেও বর্তমানে চালু সিমটি সবার সচল থাকবে।”
এনআইডি কার্ড প্রতিটি গ্রাহকের গোপনীয় ডকুমেন্ট। যে কোন মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানীর জন্য গ্রাহকের এনআইডি কার্ড কোম্পানীর কাছে আমানত স্বরূপ। একটি সিম কেনার সময় অথবা হারানো সিম রিপ্লেসের সময় অথবা অন্যান্য প্রয়োজনে একজন গ্রাহক মোবাইল ফোন কোম্পানীকে নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি দিতে বাধ্য হয়। প্রতিটি গ্রাহকের এনাইডির তথ্যাবেজ অত্যন্ত গোপনীয় বিষয়। কোম্পানী গ্রাহকের অনুলিপি জাতীয় পরিচয় পত্রটির নিজস্ব সার্ভারে সংরক্ষণ রাখে।
সিম বিক্রির পর, প্রতিটি গ্রাহক তো এটাই জেনে আসছেন। এবং প্রতিটি কোম্পানীকে বিশ্বাস করেই সেই কোম্পানীর সিম বছরের পর বছর ব্যবহার করে আসছেন।
গ্রাহকের রেখে আসা জাতীয় পরিচয় পত্রটির মোবাইল অপারেটর কোম্পানীগুলো কি করছে, না করছে, এসব খোঁজও কেউ নিতে যায় না কোনদিন।
আর এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়েছে দেশের খ্যাতনামা মোবাইল অপারেটর কোম্পানীগুলো। এবং পথের ধারে বসে প্রতিটি কোম্পানীর সিম বিক্রির রিটেইলারেরা। বিষয়টি খতিয়ে দেখা এখন সময়ের দাবি।
ধরুন, মোতালেব মিয়া গ্রামীণ ফোনের একটি সিম কিনেছেন। মোতালেবের অজান্তেই উনার জাতীয় পরিচয় পত্রের বিপরীতে আরও ৬-৭ টি সিম বিক্রি হয়ে গেছে! যা তিনি জানেন না। এখন ১০ টি সিমের অধিক কেউ আর সিম ব্যবহার করতে পারবেন না শুনে. মোতালেব মিয়া নিজের সিমটি চেক দিয়েছেন-ধরুন দীর্ঘ ১৩ বছর পর! এখন দেখা গেছে- লোকটির এনআইডির বিপরীতে ঢুকে আছে আরও ৬ টি সিম! বিষয়টি কাকতালীয় মনে হলেও খুব সেনসেটিভ?
এখন যেই ৬ জন সিম ব্যবহারকারী মোতালেবের এনআইডিতে সিম ব্যবহার করছে, এরা রাষ্ট্রবিরোধী ও যে কোন ধরনের অপরাধমূলক কাজের সাথে সম্পৃক্ত হলে-সিম বিক্রেতা মোবাইল ফোন কোম্পানী কি কাঠগড়ায় দাঁড়ায় না দাঁড়াবে? বেচারা মোতালেব মিয়া তো যাবে ফেঁসে?
নির্দোষ মোতালেব মিয়া তো জানেই না তার জাতীয় পরিচয় পত্র দিয়ে কিভাবে অপরাধীরা নামীদামী একটি কোম্পানীর সিম ব্যবহার করছে?
কাষ্টমার কেয়ারে গেলে বলছে, “এই ধরনের সিম বেশিরভাগ পুরাতন এই আইডিতে নেয়া। এবং এই নাম্বারগুলো কোম্পানীর ব্লক লিস্টেড। এখন গ্রাহক অযাচিত বাকী সিম ব্যবহার করবে না। ডি-একটিভ কিংবা ব্লক মারতে বললেও কাষ্টমার কেয়ার থেকে বলা হচ্ছে, (জিপি) ১২১ এ কল করে আপনার একটির অধিক এসব সিম নাম্বার বন্ধ করতে হবে।”
এত বড় একটি অমানবিক ঘটনা ঘটার আগেই সিম কোম্পানীগুলোকে বৈধ সিম ও প্রকৃত সিম ব্যবহারকারীর সিমটি ছাড়া অবৈধ ও একই এনআইডির ফেক বিতরণ সিমগুলো ডি একটিভ করে দেয়াটা খুবই জরুরি বলে মনে করছেন নাগরিক সমাজ। সবার অনুযোগ সিম কোম্পানীগুলো তাদের মিনিট আর ইন্টারনেট প্যাকেজ বিক্রির এসএসএস ছাড়া আর কোন উদ্দেশ্য নেই। অফার ছাড়া যেন তাদের চলেই না! গ্রাহক মরলো কি বাঁচলো, সেই সময় নেই, এই রীতিতে চলছে সিম অপারেটর কোম্পানীগুলোর অস্থির বাণিজ্য! অনেকেই বলছেন- কোম্পানীগুলোর এসব অনৈতিক বাণিজ্যের বলি হচ্ছে প্রতিদিন লাখো সাধারণ সিম ব্যবহারকারী!
এদিকে বিটিআরসি ১০ সেপ্টেম্বর সবাইকে ভাচুয়ালি এসএমএস দিয়ে জানিয়েছে-“১০টির বেশি সিম থাকলে ৩১ অক্টোবর-২৫ এর মধ্যে অতিরিক্ত সিম গুলো মালিকানা পরিবর্তন বা ডিরেজিস্টার করুন। সিমের লিস্ট পেতে *১৬০০১# কোডও সংযুক্ত করে দেয়া হয়েছে এসএমএস-টির সাথে। মজার ব্যাপার-এরপর থেকেই সাধারণ সিম ব্যবহারকারীরা নিজেদের এনড্রয়েড ফোনে অথবা মোবাইল রিজার্জের দোকানে গিয়ে জাচাই করতে ছুটে আসছেন-কার এনআইডিতে কয়টি সিম উত্তোলিত হয়েছে। অনেকে অনেক বছর আগে থেকে সিম ব্যবহার করায়- কবে, কার জন্য কোন কোম্পানীর, কোন নাম্বারের সিম কিনেছিলেন-ভুলেও বসে আসেন। কতজন কত সিম হারিয়েছেন। সেগুলোরও লাপাত্তা। কতজনের হারানো সিমের মোবাইল নাম্বারও মনে নেই। আর ব্যবহারও করেননি কত সিম। এই এক অস্থিরতায় বিভিন্ন কাস্টমার কেয়ারেও পেরেশানির মধ্যে ছুটে যাচ্ছেন অনেকে। শান্তিবাগের সেলিম সাহেব বললেন-উনার মায়ের নাম্বারে ৩০০-৫০০ টাকা দেন। কিন্তু চেক করলে দেখায় ব্যালেন্স শুন্য! কোম্পানী থেকে টাকা কেটে নেয়া হচ্ছে। তিনি খিলগাঁওয়ের গ্রামীন কাষ্টমারে এসেছেন সমস্যার সমাধানে। ছামসুদ্দিনের সিমে বিকাশ পার্সোনাল একাউন্ট করেছেন। অথচ উনার সিমের বিপরীতে অন্য একজন চালাচ্ছে বিকাশ এজেন্ট ব্যাংকিং! মাদারটেকের ইব্রাহিম সাহেব বললেন- এই বছর জুন মাসে *১৬০০# এ চেক করলাম, আমার জাতীয় পরিচয় পত্রে আমার মোট সিম (০৯) আর এনআইডিতে তোলা সিম (০৭) টি। কালকে একটি বিকাশের দোকানে গিয়ে চেক করাই! হায়হায়! একি অবস্থা? ৩ মাসের ব্যবধানে আমার জাতীয় পরিচয়পত্রে তোলা ১ টি গ্রামীণ সিমের নাম্বারের সাথে ওরা আরও ৬ টি বাড়তি সিম ঢুকিয়ে দিয়েছে! আগের হিসাবের সাথে এখন তথ্য দিচ্ছে-মোট সিম (১৫) আর এনআইডিতে তোলা আমার ১ টি জিপি সিমের জায়গায় জিপি (প্রি-৭) টি সিম? আমার একই এনাইডি দিয়ে বাকী ৬ জন কারা এই লিষ্টের মোবাইল নাম্বারগুলো ব্যবহার করছে? এই সৌভাগ্যবানদের আমি দেখতে চাই না। ছুটে আসলাম এই অবৈধ ৬ টি নাম্বার জলদি বøক করে ডিয়েকটিভ করতে তালতলার কাস্টমার কেয়ারে। আমি হার্ডের রোগী। বøক রিং লাগানো সিম ব্যবহারকারী। এসে দেখি কাস্টমার কেয়ারই বন্ধ? গ্রামীণ ফোন কোম্পানীর সিমের যদি এই হাল হয়। শুধু আমারই না। আমার জানামতে আরও অনেকের এনআইডি সার্চ দিলে এই একই সমস্যার কথা বলছেন। দেশের কোটি মানুষের এখন বেশি জিপিসহ অন্যান্য সিম ব্যবহার করছে। একজনের জাতীয় পরিচয় দিয়ে এমন ৬-৭ টি অবৈধ সিম ব্যবহারের লিস্ট প্রমাণসহ বেড়িয়ে আসে, তাহলে কতগুলো সিম এভাবে মানুষের কাছে বিতরণ করা হয়েছে?
প্রশ্নটি ভয়াবহ রকমের একটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে বিশেষ করে গ্রামীণ ফোন সহ অন্যান্য (বাংলা লিং, এয়ারটেল-রবি, টেলিটক) সিম বাণিজ্যের টেলিকমিউনিকেশন প্রতিষ্ঠানগুলোকে?

সিম কোম্পানীগুলোর নামে আরও কত যে নাগরিক সমাজের অভিযোগ-সেটা বলে শেষ হবে না।
কোম্পানীগুলো আমার আপনার এনআইডি ব্যবহার করে যে পাইকারী হারে সিম বিক্রি করেছে, সেটা এখন আর লুকোছাপা নেই। সিমের লিষ্ট পেতে *১৬০০১# কোডটি-ই বলে দিচ্ছে ঘটনা কী?
এতদিন এই বিষয়ে সাধারণ গ্রাহকের কোন ধারণাই ছিল না। এখন গ্রাহকের বড় ধরণের ঝুঁকিতে পড়ার ভয় কাজ করছে বিধায়-এই সমস্যায় পড়া গ্রাহকের মধ্যে অস্থিরতা বিরাজ করছে। সরকারি মহলের এই বিষয়ে নেই কোন ট্রান্সপারেন্স বা কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা। ভোক্তা আইনও যেন অন্ধ! অথচ ২০০৯ অনুযায়ী যে কোন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের সাথে প্রতারণা করলে, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়ে এই ভোক্তার অধিকার আইনে। আইনটি যে বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কিছুটা সিথিল, মোবাইল ফোন কোম্পানীগুলোর সৃষ্টি নতুন এই সংকট-ই বড় প্রমাণ!
নিজেদের ব্যবসার সুনাম টিকিয়ে রাখতে এবং সাধারণ সিম ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সিম কোম্পানীগুলোকে সততার সাথে কাজ করতে হবে। বর্তমান এই সংকটে পড়ে প্রতিটি কাস্টমার কেয়ারে আসা সিম ব্যবহারকারীদের এই জটিল সমস্যা নিরসনে সিম কোম্পানীরা উদারচিত্তে বিষয়টির আশু সমাধানে এগিয়ে আসবে।
এই দাবী জানাচ্ছেন, সাধারণ সিম ব্যবহারকারীরা।

Facebook
Twitter
LinkedIn